বাহিরানা

আকাশ-তামাশা: এশরার লতিফ— ইতিহাসের রহস্যে মোড়ানো গোলকধাঁধা


এশরার লতিফের নতুন ঐতিহাসিক রহস্য উপন্যাস আকাশ-তামাশা। বইটির সময়পর্ব ১৮৯২ সালের উপনিবেশিক আমল, যেখানে চরিত্র হিসেবে ঢাকার নবাব আহসানুল্লাহ থেকে রবীন্দ্রনাথ, হাসন রাজার ছেলে সবারই উপস্থিতি রয়েছে। দুই মলাটের ভেতর এরকম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্রদের উপস্থিতি কার্যতই বইটিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে।

লেখক উপন্যাসটিতে টানটান উত্তেজনা তৈরি করেছেন, প্রতি অধ্যায়েই নতুন নতুন চমক আর সমস্যা ও তার সাথে অগ্রগতির বাস্তবতার উদয় হয়। সেইসাথে ইতিহাসের সেই কালপর্বটির নিজস্ব টানাপোড়েন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি তুলে এনেছেন বইটিতে। বাস্তবের এতসব গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের উপন্যাসে তুলে আনা সহজ তো নয়, আর এঁদের পেয়ে পাঠকদেরও চমকিত হওয়ার কথা।

গল্পের প্লট এরকম, অষ্টাদশী শ্বেতাঙ্গিনী মিস ভ্যান ট্যাসেল আকাশ-তামাশা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আহসান মঞ্জিলে প্যারাশুট নিয়ে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাতাসের তোড় তাকে আহসান মঞ্জিলের দিকে না নিয়ে রমনার এক গাছের উপরে ফেলে, আর গাছটি থেকে নামার সময় দু্র্ঘটনাক্রমে তার মৃত্যু হয়। তবে বিপত্তি বাধে তখন যখন তার মৃত্যুর দায় মানুষ নবাব আহসানুল্লাহর উপর চাপাতে চায়। তিনি এই দায় থেকে নিষ্কিৃতি পেতে গোয়েন্দা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। ভ্যান ট্যাসেলের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের ভার দেন তিনি এক নবীনা গোয়েন্দা নবনীর উপর, সে সদ্য ইতালী থেকে ফিরেছে কেবল। সে যখন তদন্ত করতে নামে তখন এই আপাত সাধারণ ঘটনাটিতে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পায়। একে ঘিরে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে। আর তার সন্দেহ দৃঢ় হতে থাকে যে এটা দুর্ঘটনা নয়, মিস ভ্যান ট্যাসেলকে আদতে খুন করা হয়েছে। তখন তার সন্দেহের তালিকায় অ্যাক্রোব্যাট রামচন্দ্র থেকে কবি রবীন্দ্রনাথ সবার নামই এসে জড়িয়ে যায়। সেই তালিকায় এমনকি নবাব আহসানুল্লাহর নামও রয়েছে। সেইসাথে আছে রহস্যময় চরিত্র হাসন রাজার ছেলে গনিয়ুর রাজা। ঘটনার পর থেকেই আকস্মিকভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন যিনি। নবনীর উপর বিশাল দায়িত্ব, কিন্তু যাদের সাথে তার যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাদের শক্তিমত্তা আর বুদ্ধির জোরকে হেলা করার সযোগ নেই, বরং তারা সময় হওয়ার আগেই আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিদ্ধহস্ত।

লেখক উপন্যাসটিতে টানটান উত্তেজনা তৈরি করেছেন, প্রতি অধ্যায়েই নতুন নতুন চমক আর সমস্যা ও তার সাথে অগ্রগতির বাস্তবতার উদয় হয়। সেইসাথে ইতিহাসের সেই কালপর্বটির নিজস্ব টানাপোড়েন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি তুলে এনেছেন বইটিতে। বাস্তবের এতসব গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের উপন্যাসে তুলে আনা সহজ তো নয়, আর এঁদের পেয়ে পাঠকদেরও চমকিত হওয়ার কথা। আর বইয়ের উপসংহারটিও অগতানুগতিক, সেটা আরও ঋদ্ধ করেছে বইটিকে।

এশরার লতিফের ভাষা ব্যবহার সহজ আর প্রাঞ্জল, গল্পের কাঠামোতে গোলকধাঁধা তৈরিতেও তিনি অত্যন্ত দক্ষ। তাই একটানা পড়ে শেষ করার প্রবল এক ইচ্ছে তৈরি হয়। বইটি পাঠকপ্রিয় হবে এটা জোর দিয়েই বলা যায় ।

আকাশ-তামাশা
এশরার লতিফ
প্রকাশনী : আজব প্রকাশ
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ২০৮
প্রকাশকাল : ২০২৩।

(Visited 33 times, 1 visits today)

Leave a Comment