ফ্রান্সিস ওজন-এর নতুন চলচ্চিত্র ‘এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন’। বাবার আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বাবা আর মেয়ের মানসিক দ্বন্দ্ব নিয়ে এর কেন্দ্রীয় প্লট গড়ে ওঠেছে। পরিচালক সংবেদনশীল স্পর্শে আর একইসাথে সাবলীলভাবে সবধরণের নাটকীয়তা আর নৈতিকতার চলতি ধারণাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সত্য ঘটনার উপর লিখিত এমানুয়েলা বার্নহেইম উপন্যাস থেকে এর মূল গল্প নেওয়া হয়েছে। ছবিতে মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সোফি মারসেও (এমানুয়েলা বার্নহেইম)। তার অনবদ্য অভিনয়ে এমানুয়েলা চরিত্রটি যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে।
এরসাথে পাশ্চাত্যের বর্তমান জিজ্ঞাসা এসিসটেড সুইসাইড আর এর আইনগত বৈধতাকেও নিয়ে আসেন পর্দায়। ‘এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন’ বাস্তবতার থেকে পালিয়ে না গিয়ে মৃত্যুর জটিলতার মুখোমুখি করে আমাদের।
চলচ্চিত্রে দেখা যায়, একজন সফল লেখিকা এমানুয়েলা তার বাবা আন্দ্রে (আন্দ্রে ডোসলিয়ার)র আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের পর তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। আন্দ্রে একজন সফল এবং ক্যারিশম্যাটিক তবে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত পুঁজিপতি। সম্প্রতি স্ট্রোক করার পর তার শরীরের একাংশ অবশ হয়ে পড়েছে। এই ভার তিনি আর নিতে পারছেন না, তাই এখন তিনি সম্মানজনক স্বেচ্ছামৃত্যু চান। তাদের দু’জনের বাহিরে সাহায্যকারী চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন, শার্লট র্যাম্পলিং ( আন্দ্রের প্রক্তন স্ত্রী), জেরাল্ডিন পাইলহাস( এমানুয়েলার বোন) আর হানা স্কাইগুলা (লা ডেম সুইস), যাকে সুইস ওম্যান হিসেবে দেখানো হয়, যিনি আন্দ্রের আত্মহত্যার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার দায়িত্বে থাকেন।
চলচ্চিত্রটিতে আবেগ আর হিউমরের এক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। যার ফলে আন্দ্রের চূড়ান্ত ইচ্ছার আকস্মিকতায় যে দ্বন্দ্ব আর দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতায় ব্যাঘাত ঘটে—তা খুব ভালোভাবে ফুটে উঠতে পারে। এর সাথে যোগ করা যায় অকস্মাৎ আন্দ্রের এমন চরম ইচ্ছার ফলে তার পরিবারের পুনর্মিলন আর তাদের পরস্পরকে বোঝার ক্ষমতা, সেগুলোকে খুব দারুণভাবে পর্দায় নিয়ে এসেছেন পরিচালক।
ওজোন দর্শকদের মৃত্যুর দার্শনিক জায়গাটায় দাঁড় করাতে চান, একজন মানুষের নিজের মৃত্যুর অধিকার আছে কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। এবং এর সাথে এরকম সিদ্ধান্তের কিরকম প্রভাব পড়তে পারে মৃতের পরিবার আর স্বজনদের উপর, আর এরসাথে পাশ্চাত্যের বর্তমান জিজ্ঞাসা এসিসটেড সুইসাইড আর এর আইনগত বৈধতাকেও নিয়ে আসেন পর্দায়। ‘এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন’ বাস্তবতার থেকে পালিয়ে না গিয়ে মৃত্যুর জটিলতার মুখোমুখি করে আমাদের। কিন্তু আবার একইসাথে জীবনের সৌন্দর্যকেও যাপন করে। এই অসাধারণ চলচ্চিত্রটি বহুকাল দর্শক আর সমালোচকদের আগ্রহের বিষয়বস্ত হয়ে থাকবে এরকম বলা যায়।
এভরিথিং ওয়েন্ট ফাইন
ফ্রান্সিস ওজন
প্রকাশকাল: ২০২১