ড্যানিয়েল কওান, ড্যানিয়েল সেইনার্টের সাই-ফাই ঘরাণার অস্কারজয়ী চলচ্চত্র ‘এভ্রিথিং এভরিহ্যোয়ার অল এট ওয়ান্স’। মিশেল ইওহ ফিল্মের প্রধান চরিত্র মধ্যবয়সী এভলিং ওয়াং নাম্নী চাইনিজ-আমেরিকান অভিবাসী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এবং চরিত্রটিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল গল্পটি এরকম, এভলিন এবং তার স্বামী ওয়েমন্ড(কে হুয়ে কোয়ান) তাদের মেয়ে জয় (স্টেফানি শু) একটা সেলফ-সার্ভিস লন্ড্রি চালায়, তবে হঠাতই তারা ট্যাক্সের জটিল এক হিসাব-নিকাশের ফাঁদে পড়ে, আর সেখান থেকেই ঘটনাপ্রবাহ বিভিন্নদিকে মোড় নিতে থাকে।
নামের মতোই চলচ্চিত্রটির ব্যাপ্তি বিশাল পরিসরের, আমরা দেখতে পাই এখানে জট পাকিয়ে আছে ভালো-মন্দের লড়াই, ভুল-শুদ্ধ, সামাজিক বিধিনিষেধ, বিভিন্ন পূর্বধারণা, অভিবাসন এর মতো পরস্পরবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়। তবে সাফ্যল্যের সাথে এই বিষয়গুলোকে মোকাবেলা করেছে ছবিটি। প্রথমত প্রধান চরিত্র এভলিন একজন অভিবাসী আর একজন অভিবাসী যে যেকোনো কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারে, এবং কোনোপ্রকার সীমানা মানে না, তা যেমন অনবদ্যভাবে পর্দায় ফুটে ওঠে।
এর অন্য সীমান্তে, তার জীবন উত্থানপতনে আকীর্ণ, সে একজন দুর্ধর্ষ ফাইটার আবার উল্টোদিকে ট্যাক্সের টাকা পরিশোধ করতে পারবে কীনা তা নিয়েও সে সবসময় উদ্বিগ্ন। তার চরিত্রের এসব বৈপরীত্য সহজেই চলচ্চিত্রের মূল থিমের সাথে খাপ খেয়ে যায়। মিশেল ইওহ তার চরিত্রে হিওমার ও করুণরসের এমন দারুণ সমন্বয় করেছেন যে সেটা মাঝে মাঝে বিস্মিত করে। আর সহযোগী চরিত্রে কে হুয়ে কোয়ান অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
ফিল্মটির মূল বিশেষত্ব হলো এর গল্পের ভবিষ্যবাদী বুনন এবং দৃশ্যায়নের অভিনবত্ব। যেরকম মৌলিকতার প্রয়াস বর্তমানে খুব একটা দেখা যায় না। আবার এর গভীরে মিশ্রিত হয়েছে পাশ্চাত্যের মাস্টার ফিল্মমেকার স্টেনলি কুবরিকের ‘২০০১: অ্যা স্পেস অডিসি’ ওং কার-ওয়াই-এর ’দ্য মুড ফর লাভ’ এবং বিভিন্ন কুংফু চলচ্চিত্রের প্রভাব।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে চলচ্চিত্রটিতে দৃশ্যমান হয় এশিয়ান আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বগত বিভিন্ন দিক। তাদের সুখ-দু:খ, হাসি-কান্নার চিরায়ত জীবন।যা চলচ্চিত্রটিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি ’এভ্রিথিং এভরিহ্যোয়ার অল এট ওয়ান্স’ অস্কারে এগারোটি নমিনেশন পেয়েছে এবং জয় করেছে সাতটি।
এভ্রিথিং এভরিহ্যোয়ার অল এট ওয়ান্স
পরিচালক: ড্যানিয়েল কওান, ড্যানিয়েল সেইনার্ট
প্রকাশ সাল: ২০২২