ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ-এর সম্পাদনায় অনুবাদগ্রন্থ ‘কোরিয়ার গল্প’ প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। বইটিতে কোরিয়ার কথাসাহিত্যের একটি গভীরতাশ্রয়ী ধারণা তৈরির চেষ্টা আছে, এরকম কাজও অতীতে খুব একটা হয়েছে বলে জানা নেই আমাদের। গল্প গড়ে উঠে একটা জনপদের আলো-বাতাস আর তার জীবনকে ভর করে, হুয়ান রুলফো’র দেশের অবস্থা, ইতিহাস ঐতিহ্য না জানলে যেমন তার উপন্যাস আর গল্পকে ঠিকমতন ধরা যায় না কোরিয়ার বা যেকোনো সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রেই এটা সত্য। কোরিয়ারও নিজস্ব সমস্যা আর হাসি-কান্না আছে। সে দেশের জনগণ দীর্ঘকাল চিন আর জাপানের উপনিবেশ ছিল। গভীরতর ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের। গল্পগুলোর হৃদয়ে প্রবেশ করতে সেজন্য বইটির সম্মৃদ্ধ ভূমিকা আর শেষে সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি বিশেষ কাজে দেবে।
অনেকসময়েই লেখকেরা গল্পগুলোয় চরিত্রদের কর্মপ্রক্রিয়া এবং তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত টেনেছেন, অনেক সময় তুচ্ছ সাধারণ ঘটনাকে নিয়ে গভীর আখ্যানের জাল বিস্তার করেছেন। তবে গল্পের ভাষাতে একটা গোপন কাব্যিকতা আছে এবং সেটি বাস্তব-পরাবাস্তবের কিনারা অমান্য করে প্রায়শই— অনুবাদকরা এসবকিছুকেই সুন্দরভাবে ঝরঝরে প্রাঞ্জল গদ্যে অনুবাদে নিয়ে আসতে পেরেছেন।
বইটি সুসম্পাদিত, একটা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মধ্যে গল্প বাছাই থেকে শুরু করে কোরিয়ার সাহিত্য ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে মান্য করে সাজানো হয়েছে বইটি। সম্পাদক এখানে কোনোপ্রকার ছাড় দেননি।
অনুবাদকদের মধ্যে আছেন মাকসুদ ইবনে রহমান, মাহবুব মোর্শেদ, ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ। দেড় হাজার বছরের সাহিত্যের ইতিহাসের পরম্পরা বহন করছে যে দেশটি তাকে দুই মলাটের ভেতর নিয়ে আসা মোটেও সহজসাধ্য নয়, সেক্ষেত্রে অনুবাদে সেরা লেখকদের সেরা গল্পগুলোকেই বাছাই করা হয়ছে। এতে কোরিয়ার কথাসাহিত্যের গতিপ্রকৃতি বিশদভাবে ফুটে ওঠেছে। অনেক লেখকই বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে অপরিচিত এবং এটাই তাদের লেখার প্রথম বাংলা অনুবাদ। তাই পাঠকদের জন্য এটা এক নতুন অভিজ্ঞতা।
অনেকসময়েই লেখকেরা গল্পগুলোয় চরিত্রদের কর্মপ্রক্রিয়া এবং তার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত টেনেছেন, অনেক সময় তুচ্ছ সাধারণ ঘটনাকে নিয়ে গভীর আখ্যানের জাল বিস্তার করেছেন। তবে গল্পের ভাষাতে একটা গোপন কাব্যিকতা আছে এবং সেটি বাস্তব-পরাবাস্তবের কিনারা অমান্য করে প্রায়শই— অনুবাদকরা এসবকিছুকেই সুন্দরভাবে ঝরঝরে প্রাঞ্জল অনুবাদে নিয়ে আসতে পেরেছেন।
বইটি সুসম্পাদিত, একটা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মধ্যে গল্প বাছাই থেকে শুরু করে কোরিয়ার সাহিত্য ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে মান্য করে সাজানো হয়েছে বইটি। সম্পাদক এখানে কোনোপ্রকার ছাড় দেননি।
আরেকটি বিষয় হলো, ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ দীর্ঘদিন যাবত কোরিয়ার সাহিত্য অনুবাদের সাথে যুক্ত থাকায় তিনি দেশটির সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি বিষয়ে সম্যক জানেন। তাঁর অনুবাদে ‘কো উনের কবিতা: খুলির নীরবতা’ প্রকাশের পর পাঠক, সমালোচক মহলে বেশ গুরুত্বসহকারে গৃহীত হয়েছিল।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর সামান্য আভাস পেতে বই থেকে একটি গল্পের কয়েকটি লাইন দেখা যেতে পারে:
“পঁচিশ! কী স্বর্ণ সময়, এমনকি আমার ভাবনায়ও। এই বয়সে মরে যাওয়াটা নিশ্চয়ই খুব কষ্টের। খুবই দুর্ভাগ্যের। কিন্তু খুব ভালো করে চিন্তা করলে, এর মধ্যে খুব কষ্ট বা দু:খের কিছু নেই। যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এমনকি ‘মৃত্যু’ শব্দটার চিহ্ন ছাড়াই যারা চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছেন,তাদের কতজনই অনুশোচনা ছাড়াই মরে গেছেন। আমার এই বয়সকে আজ জীবনের সেরা সময় বলছি, অথচ এটাই কি সেই বয়স নয়, যখন অনেক সৈনিক দু:খজনক মৃত্যুবরণ করেছেন, হারিয়ে গেছেন নির্জন উপত্যকার নামহীন ফুলগুলোর মধ্যে?”
(অন্ধকারের ভিন্নতা, কিম ওয়াং-ইল, কোরিয়ার গল্প)
এরকম এক সৈনিককে নিয়ে ফরাসি কবি আর্তুর র্যাঁবো’র একটা কবিতা আছে, তার দুইটা পঙ্ক্তি পড়া যেতে পারে:
“আহ, প্রকৃতি, তাকে উষ্ণ রাখো;
হয়তো শীত দখল করে নেবে তাকে।”
(এ্যাস্লিপ ইন দ্য ভ্যালি)
কিছু জায়গায় সব শেষই একইরকম, শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর পদ্ধতিটা ভিন্ন। যে বিন্দুতে কোরিয়ার কিম ওয়াং-ইল আর ফরাসি কবি এসে মিলে যান। সেই বিন্দুতেই জীবন আর মৃত্যুর ভেতর দিয়ে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতাঋদ্ধ বাংলা ভাষায় নতুন করে পঁচিশ বছর বয়সের ভিন্ন-ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম হয়।
বইটি পাঠকদের ভিন্ন এক দেশকে তার অভিজ্ঞতাসহ জানাবে এটা বলা যায়।
কোরিয়ার গল্প
সম্পাদনা: ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ
প্রকাশক: উজান প্রকাশন
দাম: ৬০০ টাকা।
বইটি কিনতে হলে:
কোরিয়ার গল্প – বাহিরানা (bahirana.com)