দিপংকর মারডুক
ঝিনুকের শেষপর্বে যাই কয়েকটি কবিতা
বোতাম খোলা স্বদেশে যাই আমরা। প্রতিরক্ষা ও দ্রাঘিমার ধনুক সরিয়ে ধীরে ধীরে। কোনো মুদ্রা যদি আসে
অস্ট্রিক নারীর তাম্রলিপি বরাবরে। তাকে জানাই বিজলি আলোর নিমন্ত্রণ। গন্ধ ক্ষমতার জলসেচ দিয়ে— জাতীয়
সড়কের অপঘাতে—;
যাও ছাতা ঝিরঝির। মর্ম লিখি। শুনি মাতাল বৃষ্টিবন। শূন্য কি অন্ধকার শিলাস্তরের প্রলয়ে। যেখানে বেদনা
ব্যর্থ— ধানের মৌসুম ফুরিয়ে যাওয়ার আগে;
এখন একদিন, দীর্ঘ দুপুর আবিষ্কার করি। যদি যাই পটের গান, পাঁজর ভাঙা ময়ূরের হাসি। কীভাবে তবে জানো
শেষ দ্বীপ— ভাবসম্প্রসারণ ছায়া।
স্নায়ু রেখেছো স্তব্ধ, বিপন্ন এবার পাঠাও স্বর্ণলতার ইশারা
তবু দেখি টুকরো টুকরো সরলতা— আঁশের মতন চির অপার
বধির যে আকাশ— সীমান্তে উড়াই তার মেরুন কালো নক্ষত্র
কেউ যদি আসো বালি নদীর সংক্রান্তি ছিঁড়ে নির্মাণে অন্তত—;
যথারীতি সাঁতরাও— আত্মকথা আমার। দুরূহ নাচ দেখে যে তুমি ঈর্ষাকাতর— প্রস্থান কিংবা জ্বরব্যথার আষাঢ়ে।
দ্যাখো দ্বিধার বাতাস, রেডিও কলোনি— শ্বাসমূলের উচ্চমাধ্যমিক। এই যে ব্যস্তানুপাতিক কালিগঙ্গা। তার উপর
রোদ পড়ে, বৃষ্টি পড়ে। কার্যত, প্লাবনে আক্রান্ত হতে হতে ঘ্রাণমুক্ত হচ্ছি রাঙামাটির প্রতিটা ছোটদিনে—;
ঝিনুকের শেষপর্বে যাই কয়েকটি কবিতা— ২
যখন তুমি চেয়েছো সময়— হয়েছি পরাবিজ্ঞান— বই-খাতা এবং উইপোকা থেকে রাত্রিসংলাপে নিষ্পেষিত। যা-কিছু
আমার— ধুলোর নাচে রাখি বর্ণনাপাখি। কী-ভেবে যেন আসে না মৃত্যুচিন্তা। পাঠের সমস্ত বাগানে তবুও আঁকি—
পিথাগোরাসের সৌন্দর্যবোধ অথবা উলম্ফের নষ্ট সব সূর্য। কেন করি যতিচিহ্ন— উপড়ে ফেলা কোনো গোঁয়ার্তুমির
ঈশ্বর।
লাঞ্ছিত তীর্থঘরে যদি হয় বসবাস। সন্ধ্যায় আতাফুলের বজ্রপাত নিও। আমার পঙক্তিমালা— সেই অনিশ্চিত—;
করি নিখিল ভ্রমণ। তালপাতা চাবুক। আজ এখন কুসুমবর্ণ ভ্রষ্ট করে হস্তখোলা নদীর কাছে হারাবো।
কিন্তু যদি ডাকো আরও গর্হিত,
ছোট স্বপ্নের উত্তরবাড়ি— মুষ্টি মেলে।
ইচ্ছের উপপাদ্য লিখবো গোপন কোনো
সূর্য সহযোগে; থাকবে ধূসরতা কাঠ, চকচক করা পরাবাস্তব গ্রীলজীবন এবং ওষ্ঠচুম্বনের প্রেক্ষিতে মুক্ত যা-যা—;
তবে নিম্নলিখিত সংরক্ষণ থেকে লক্ষ করে উঠি। তারা পরিবর্তন, বিলাপে জাগ্রত পাহাড় কিংবা কিছুক্ষণ শাদা
ঘটনার মাছরাঙাকাহিনি। তুমি দেখেছো সকাল, সর্বত্র একসঙ্গে নগ্নবিম্বের ওড়াউড়ি। শুনে হে নিরুদ্দেশ, মাঠের
প্রান্তর নিয়ে ছায়া অবশিষ্ট যত কারাকক্ষে—
অতি বেশি ফুটাও দাপটের নৈশ প্রহরী। শীর্ণতা ভরা শ্রাবণের কাঁটা রক্ত, শিকড়— অনাদিপ্রাণ।
আরো আরো কি কি শ্বাসবিদ্রোহ। পৃথিবী যেমন ভারী—
নির্বাসিত ধোয়া হতে বিচ্যুত একান্তে। দাও ফসিল, তন্তুর তীব্র অবজ্ঞা। যেখানে হারায় কুম্ভবলয়ের ফুলভর্তি
বিপ্রতীপ শ্মশান— সহসাই। এসো ক্রমশ, জলগুল্মের প্রত্যুষকাল। আকীর্ণ দক্ষতা থেকে সারশূত্র বাজেয়াপ্তে—;
ঝিনুকের শেষপর্বে যাই কয়েকটি কবিতা— ৩
কথা কারবার করে রাখো বর্শাবিদ্ধ। নতজানু হয়ে বেদনাক্রান্ত, সেই ব্যর্থ শিশিরে নূন্যতম—; চারপাশে যত
সূর্যোদয়, পর্বতমালা কিংবা প্রচলিত মিথের গন্ধমে— বৃষ্টির কণ্ঠস্বর। উঠে আসে চলিত মানুষ— চক্রাকারের সাহসী
শয্যায়। এখন মর্গে আনি না প্রণিত শকুনের চিৎকার। উঁচু আর নিচু প্রদর্শন করে, সেটাও নয়। ক্ষয়ে ক্ষয়ে
যাওয়া হাওয়ার দূরত্বে পূর্ণতা সব তীব্র দিকনির্দেশক।
কার জন্য ডাকছো তুষার ঋতু প্রতীতি সংশয়? ঝড়ে ঝরে পড়া বুলবুলি পাখির গান? সাইরেনে সব অবশিষ্ট
প্রতিধ্বনি—; বিবাহোত্তর মৃদু ইর্ষাকাতরে চুক্তি করো ফাঁকা বন্দুকের স্বপক্ষ। এতোদিন ছিলাম সন্ধ্যা নদীর কালে।
ধাতুর নিষ্কাশনের জরাজীর্ণ শত পাতা আদলে। বাব বার করি সমর্থন— শিকড়শূন্য উজ্জ্বল নাগরিক সমুদ্রে—;
দেখি যাত্রা, গোপন ভবিষ্যৎ, সময়ের জন্ম-নিরোধক। যদিও
পারদ শিকারে কালো শ্রাবণ ঝরাও ঐতিহাসিক পতনে লিপিবদ্ধ।
সূক্ষ্ম নই আমি, সংকীর্ণতায় একা এক মাতাল যে গতি করেছি সুরভিত
খুঁজেছি ভেষজ পদচিহ্নের মাত্রা, ইলেকট্রিক আলোর নকশাল পাহাড়।
জন্মের ওপাড়ে যাও— বনবৃত্ত পথ। শুভ্র এক পাখি, করে কীটের প্রত্যপর্ণ। তাকে দেখাও বিস্ফোরণের উচ্চতা।
তবুও আজ বড়ইপাতার থেকে লিখছি— গণিত, শূন্য কিংবা ভাদ্রের আবাসে গরুর চোখের নরম মায়া।
প্রবেশ রাখো ক্রমের সকল পাখিদেবতা
নির্মাণের যতোটুকু বনস্পতি। বলি, সামনে তোমার মহিষে ক্ষয়িত
বিপুল ঘাস। আধ্যাত্মিক যতো অধীন করো। এমন কি নেই মৌরির শান্ত বছর— গভীরের সবকটা জলবৃক্ষ হাতে?
স্বপ্ন যদি তিল ভাবো বিপন্ন প্রাচীরের দু’চোখে। পাঠাও মানসসরোবর, দ্রাক্ষারস— বলে যাওয়া আমারই শত
মর্মরিত শতাব্দীতে—;
ঝিনুকের শেষপর্বে যাই কয়েকটি কবিতা— ৪
হঠাৎ এসেছে গুহামন্দিরের ফাঁদ— কমলালেবুর রূপকথা নিয়ে দাউ-দাউ শিখার নাগরিক দেশে। কোথায়
আজ মৃতবৃষ্টি। পাথর দাঁতের সামন পানপাত্রের স্বাদ। দূর উৎসব। নীরবতা। যেন-বা মেহেন্দিপাতার মতন নতুন যুগের
সূচনা। কিসে এতো আটকায় শীতলক্ষ্যা স্টেশন? দেহের সমস্ত বৃহস্পতিবার ফেটে পড়লে ব্রজধুলির পূর্ণ
বন্ধনে—;
এ এক পরিচ্ছদের বেদী— অকালে করি রাখিপূর্ণিমার নৃত্য। কৃষ্ণচূড়া পর্বত হয়ে এসো, বহুরাত করেছি পান।
এখন পাঁচিল খসে পড়ে ফিরোজা শ্মশান হাসবে বলে! যে লালকাঁকড়া বুকের স্পন্দনে পড়েছে উত্তরীয়— তাকে
দাও সূর্য কোলাহল।
মুহূর্তে আঁকি না উন্মুক্ত দুপুর, যজম কুকুরের স্লোগান
রথচক্রে যত আছে প্রকাণ্ডের গান— ধু-ধু শুনশান
নর কি নারী লেখো হাজার বিন্দুর শ্রীমুক্ত পাপে
মসৃণ দিন রাহুগ্রাসে যায় ব্যাঙের নিম্ন দোষারোপে;
আবর্তন নয় ধ্বংস। ধাতুবিদ্যা শিখি তবুও কর্মকার নই আমি।
লেজে রাখা প্রাণ— ফিরে আসি ধূমকেতু যুগ ধরে। কেবা পারে শুকনো পাতার ডাক। কত কত খনি হয়েছে
চুপচাপ মরুভূমির জানাশোনা বিগ্রহে। কথা কও ভারী। জগৎ এর অসীম তীরে—; বাতাস, আগুন, ঘোড়া ছুটছো
গতির টগবগে—;
অথচ রইলাম, সইলাম— দিগন্তের জামাটে। ধোঁয়ায় যদি আসে ঝড়— শঙ্খ বাজে রঙে। কী আজ কাঙাল— আড়াল
করি খেয়াঘাটের অন্ধকার। উল্কাপাতে হবো কি নির্বাক? যে চিনেছো পাথরকুচি, দেশলাইকাঠি কিংবা ঘুটঘুটে
সন্ধ্যা সরীসৃপ। স্বেচ্চাচারী মহাদেশের ঘূর্ণনে দাও তোমার মিলন— সকল নেহাতের শিকারি বন্দরে—;
ঝিনুকের শেষপর্বে যাই কয়েকটি কবিতা— ৫
কোনোদিন বরষা রাতে একা যাই মিশে শেষ-চূড়ায়। রাশি ছিলো দু’জন। চলো বন্ধু ভৌতিক পাহাড়। হাজার
ঢিবি ঝরছে— কে কোথায় দাঁড়িয়ে—; বিলক্ষণ আজ নয় আলাপ। কী করি রক্তাক্ত ইটের চুল্লি— স্নানে নেমেছি
কার চিতায়? উল্লাস তো শ্রীরাধার করারোপিত হা-হা-কা-র। সাড়া থাকে চোরাগলি— নতুন কোনো মানুষের
রূপে—;
তল হতে সে-দিন রূপকথায় মলিন। যুগ পার হয়ে দেবদারু বিকাল— আসমানে রাখো অমল দৃষ্টি। বিশ্বাস যারা
করে যুবক-যুবতী, — দেখেছি কলরব, ঘোড়ার খুর ছুটা দুরন্ত ট্র্যাফিক। পথে নেই কিনার। মৌন মুহূর্তে ধবধবে
মিনার।
মধ্য হাওয়া ঘাটে বাজে
ধুকপুকের সূর্য নিভিয়ে—; কখন যে দেয়
গাঢ় হানা নরকপুঞ্জিত কার্বনের তীর ছুড়ে
বেফাঁসে যাই তিন গতির আয়ুকাল। করে কারা অট্টহাসি রূপের মহাকাল?
পেয়ালার সমান ক্ষ-য় হই। যাপন নিয়ে যত আছি আয়োজনের পৌরাণিক ডাকে। দেখিনি পালের উৎসুক,
মিথ্যাচারী লিলির পালটানো বিষাদ। এখন সাক্ষ্য দেয় প্রিয় উদ্ভিদের নাভিস্থ স্পর্শ। গভীর দিয়ে নিঃশ্বাসে যাও,
প্রয়োজনীয় ডাকাতিয়ার কাছাকাছি। পাপ যেন বিরহী— শূন্যের বেঁকে যাওয়া গেরুয়া পল্লি—;
নিরাপত্তা একটি গ্রন্থ। মধ্যসন্ধ্যায় ঝিনুকে পোড়াই সমৃদ্ধ সিরিজের হেমন্ত। রাত জাগি, মগজের স্বরচিহ্ন করি।
সা-রে-গা-মা-পায় যাবো কোথায় প্রেক্ষপট নিরুত্তর। প্রশ্ন হোক প্রতিফলন, সেলাই উৎসর্গের পাশে পাশে…
আবার কিছু অসমাপ্ত, জেনেছি সুতো বাঁধা মহাসাগরের বেখেয়ালে
নগরের কোন্ দ্রুতগামী মেইল আসে শৈশবকালীন কড়ইয়ের ছোবলে
বসো স্বাদ, লজ্জাবতীর প্রতিরন্ধ নিয়ে নক্ষত্র সেলুনের বাহিরে
সে আমি তরঙ্গে মাতাল হৃদপিণ্ডের তাড়নায় যাই ভেঙেচুরে—;