বাহিরানা

সিম্পলি লাইস


 

প্রকাশিতব্য বই

আমেরিকান লেখক ডেভিড বালডাচি মূলত থ্রিলার আর সাসপেন্স ঘরানার উপন্যাস রচনায় সিদ্ধহস্ত। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘এ্যাবসল্যুট পাওয়ার’ (১৯৯৬) প্রকাশের আগে তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন প্রায় নয় বছর। এই পেশাগত অভিজ্ঞতা থ্রিলারে তার অনন্যতা প্রতিষ্ঠায় দারুণ সহায়ক হয়েছে। উপন্যাসটি নিয়ে হলিউডে একটা চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল যাতে অভিনয় করেছিলেন ‘ক্লিন্ট ইস্টউড’ এবং ‘জিনি হ্যাকম্যান’। এরপর এ যাবত তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা বইয়ের সংখ্যা ৪৭টি। বালডাচির বই অনূদিত হয়েছে বিশ্বের ৪৫টি ভাষায় আর বিক্রি হয়েছে একশ পঞ্চাশ মিলিয়ন কপিরও অধিক। তাঁর কিছু জনপ্রিয় সিরিজ হলো, ক্যামেল ক্লাব, এ্যামোস ড্যাকার, উইল রবি। তাঁর নির্মিত চরিত্রদের নিয়ে টিবি শো’র জন্য তিনি অনেকগুলো চিত্রনাট্যও লিখেছেন। বর্তমানে পরিবারসহ বাস করছেন ফেয়ারফেক্স কাউন্টি, ভার্জিনিয়াতে। 

 

নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলিং লেখক ডেভিড বালডাচির নতুন থ্রিলার ঘরানার বই, ‘সিম্পলি লাইস’ এই এপ্রিলে প্রকাশিত হচ্ছে। উপন্যাসটি একজন প্রাক্তন গোয়েন্দা এবং দুই সন্তানের কুমারী মাতা মিকি গিবসনকে নিয়ে। সে বর্তমানে নিউজার্সির প্রো আই নামে একটি তদন্ত সংস্থায় কাজ করে। যারা ঋণের অর্থ আত্মসাৎকারী বিত্তবানদের সম্পদ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত। একদিন মিকি তার এক সহকর্মী আরলেন রবিনসনের কাছ থেকে একটা ফোন কল পায়, আরলেন তাকে এক অস্ত্রব্যবসায়ীর বাড়িতে যেতে বলে। যে অতীতে প্রো আইয়ের অনেক ক্লায়েন্টের সাথে প্রতারণা করেছে। মিকি যখন সেই অস্ত্রব্যবসায়ীর ম্যানসনে পৌঁছায় তখন সে এক গোপন কুঠুরিতে একজনের মরদেহ খুঁজে পায়। এরপরই তার কাছে আবিষ্কৃত হয় অস্ত্রব্যবসায়ীর আসলে অস্তিত্বই নেই এবং আরলেন রবিনসন নামের কাউকে প্রো আইয়ের কেউ চেনে না।  সে বুঝতে পারে তাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং এখন পুলিশও তার পেছনে লেগেছে। মরদেহটি ছিল টমাস লেনচেস্টার নামের একজনের, যে সাক্ষী প্রহরায় ছিল এবং যার সংযু্ক্তি ছিল বড় এক মব গ্যাংয়ের সঙ্গে।

তখনই ঘটনাচক্রে প্রাক্তন গোয়েন্দা মিকি গোপন উদ্দেশ্যধারী রহস্যময় এক নারীর সঙ্গে মৃত্যুমুখী ইঁদুর-বেড়াল খেলায় জড়িয়ে পড়ে। রহস্যময় নারীটিকে আমরা উপন্যাসের বেশিরভাগ অংশেই নামহীন দেখতে পাই। তার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, সে একজন ঠন্ডা মাথার খুনী আর একইসাথে নৃশংস প্রতিপক্ষ। তার এক গোপন অতীত আছে আর মিকির সাথে রয়েছে এক ব্যক্তিগত প্রতিশোধের ইতিবৃত্ত। স্বাভাবিকভাবেই এরকম কারও সাথে সহজে জয়ী হওয়া কঠিন।

কিন্তু তাকে থামানো প্রয়োজন, আর সেই দায়িত্ব মিকি গিবসনের হাতে পড়েছে। তবে সেই কাজে তাকে প্রথমে জানতে হবে নারীটির সত্যিকারের পরিচয় এবং অতীতে তার সাথে কী ঘটেছিল। কী ক্ষতিই বা হয়েছিল তার। আর কেন মিকিকেই সে প্রতিপক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় চরিত্র মিকি গিবসন একজন সহজাত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী সহানুভূতিশীল নারী, যে কিনা বিপদমুহূর্তে নিজে টিকে থাকতে এবং পরিবারকে রক্ষা করতে সবসময় তার দক্ষতা এবং স্বজ্ঞার উপর নির্ভর করে। তার এই বিশেষ গুণটিকে আমরা পৃথিবীবিখ্যাত ক্লাসিক থ্রিলারগুলোতেও দেখতে পাই। যা কার্যত পুরো আখ্যানটিকেই অন্যমাত্রা দিয়েছে।

অন্যদিকে বইটির একটি বড় বিশেষত্ব হলো এর কাহিনি খুব দ্রুতগতিতে এগোয় এবং একইসাথে পাঠকদের আকর্ষণকেও টানটানভাবে ধরে ধরে রাখে। মিইয়ে যেতে দেয় না।

এই উপন্যাসে বালডাচি জটিল গল্প বলায় দক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। এর পাশাপাশি নির্মাণ করেছেন অনবদ্য সব চরিত্র ।

উপন্যাসটি টুইস্টে পূর্ণ আর সেইসাথে পাঠকদের একদম শেষ পর্যন্ত শুধু অনুমান করে যেতে বাধ্য করে। লেখক তাঁর সহজাত শিল্পদক্ষতায়  বিশ্বাস, প্রতারণা, বিচার আর পাপমুক্তির প্রচলিত ধারণাগুলোকে এই কাহিনীতে নিয়ে এসেছেন। যা উপন্যাসটির গভীরতা বৃদ্ধি করেছে।

থ্রিলার আর সাসপেন্স ঘরানার পাঠকদের জন্য এ বই অবশ্যপাঠ্য এটা বলা যায়।

উপন্যাসটি ১৩ তারিখে ইউকেতে এবং ১৮ তারিখে ইউএসএতে প্রকাশিত হবে।

সিম্পলি লাইস

লেখক: ডেভিড বালডাচি

প্রকাশক: গ্রান্ড সেন্ট্রাল পাবলিশিং

প্রকাশিতব্য: এপ্রিল, ২০২৩।

 

 

(Visited 26 times, 1 visits today)

Leave a Comment