বাহিরানা

আইনের ক্যানভাসে জীবন সমাজ ও সংস্কৃতি বই রিভিউ—অর্পিতা শামস মিজান—নারী, পরিবার ও মানবাধিকারে আইনের সহজ ব্যাখ্যা


দিপু চন্দ্র দেব

আইন আমাদের সমাজে প্রায়শই সাধারণ মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্র আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হলে—সেটা ভারসাম্যপূর্ণ একটি অবস্থা তৈরি করে দুই ক্ষেত্রেই। কিন্তু ব্যক্তি যে আইনের দ্বারা সুরক্ষিত হবেন, কিংবা ব্যক্তি যে আইনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না, তার নিশ্চয়তা কী? ফলে আইনকে কঠিন কিছু না ভেবে সেটিকে সমাজ, ব্যক্তি ও সংস্কৃতির নিরিখে জানা আইনের ভুল প্রয়োগ রোধ বা সঠিক আইনের দ্বারস্থ হওয়া সহজ করে। এরসাথে আমাদের সমাজে নারীরা তুলনামূলকভাবে প্রায়ই আইনের সুরক্ষা পেতে বেশি সমস্যায় পড়েন। অর্পিতা শামস মিজান আইন গবেষণা ও অধ্যাপনায় যুক্ত থাকায় তিনি “আইনের ক্যানভাসে জীবন সমাজ ও সংস্কৃতি” বইটিতে সমাজের নিত্যদিনের ব্যক্তিজীবনের ঘটনাবলিতে থাকা আইন-এর বিষয়গুলো তুলে এনেছেন। যেন ঘটনাগুলোকে সহজে বোঝা যায়, প্রতিকারও নিশ্চিত হয়।

যেমন একটি লেখা ধর্ষণ নিয়ে, “ধর্ষণের অতিমারি এবং আইনিশিক্ষার দায়বদ্ধতা” এই অতিমারি রোধ করার উপায় কী? সচেতনতার পাশাপাশি? এই বিষয়ে আইন পথ দেখাতে পারে, আবার সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে এটা যে ঘৃণ্য অপরাধ সেই চেতনা বৃদ্ধি করা আবার সামাজিকভাবে ভিক্টিম ব্লেমিং-এর যে বিভিন্ন চর্চা আছে সমাজে সেটারও নিরসন সহজ করতে পারে। বিশেষ করে বইটি আইন যে কালো কোটের ভেতর থাকা খটমট কোনো বিষয় নয়, তাও যেহেতু উপস্থাপন করতে চায়। ফলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পথের বাধা দূর হতে পারে।

বইটিতে আইন নিয়ে ৩৩টি আলোচনা আছে। শিরোনামের বিভাগ দেখলেই স্পষ্ট হয় তার বক্তব্যের মূল লক্ষ্য, যেমন, “পারিবারিক জীবন ও আইন”, “বাংলাদেশের সমাজে নারী,” “নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ ও বাংলাদেশের আইন”, “করোনাকালে যাপিত জীবনের অধিকার”। নারী অধিকার বিষয়টিতে তিনি বেশি জোর দিয়েছেন, এর প্রাসঙ্গিক কারণগুলোকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

যেমন একটি লেখা ধর্ষণ নিয়ে, “ধর্ষণের অতিমারি এবং আইনিশিক্ষার দায়বদ্ধতা” এই অতিমারি রোধ করার উপায় কী? সচেতনতার পাশাপাশি? এই বিষয়ে আইন পথ দেখাতে পারে, আবার সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে এটা যে ঘৃণ্য অপরাধ সেই চেতনা বৃদ্ধি করা আবার সামাজিকভাবে ভিক্টিম ব্লেমিং-এর যে বিভিন্ন চর্চা আছে সমাজে সেটারও নিরসন সহজ করতে পারে। বিশেষ করে বইটি আইন যে কালো কোটের ভেতর থাকা খটমট কোনো বিষয় নয়, তাও যেহেতু উপস্থাপন করতে চায়। ফলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পথের বাধা দূর হতে পারে।

একইভাবে “ফতোয়া ও নারী নির্যাতন” উপশিরোনামেও আলোচনা আছে বইটিতে, গ্রামে নারীরা হরহামেশাই ফতোয়ার জটিল বেড়াজালে পড়েন, নারী নির্যাতনও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে যায় সেখানে। রাষ্ট্রকে যদি সর্ববৃহৎ কাঠামো হিসেবে দেখি তাহলে পরিবার তার একক, পরিবারগুলো নিয়েই তো গঠিত হয় রাষ্ট্র, সেটি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন অর্পিতা শামস। যেমন, “মুসলিম নারীদের বৈবাহিক অধিকার” “ধর্ষণ ও বিয়ে” আত্মহত্যা’সহ এককটির গুরুত্বপূর্ণ সব পরিধি নিয়ে লিখেছেন তিনি।

বইটিতে “মানবাধিকার ও ক্ষমতা” বিষয়টিতেও দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। সমাজের সব সমস্যার সাথে এই বিষয় দুটি যুক্ত থাকেই, বিশেষ করে ক্ষমতাকাঠামোর বিশ্লেষণই সমস্যার মূল্যায়নকে সঠিক বা বেঠিক করে অনেক ক্ষেত্রেই। সমাজ ও ব্যক্তিক কর্মকাণ্ডে, বিশেষ করে নারী অধিকার প্রশ্নে, পারিবারিক কাঠামোতে আইন যে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে সেটি সহজবোধ্যভাবে উঠে এসেছে এই বইয়ে। বইটি পড়া উচিত সবার, বিশেষ করে নারী ও বাংলাদেশের সমাজে আইনের সুক্ষ্ণ অংশগ্রণকে যারা জানতে চান।

আইনের ক্যানভাসে জীবন সমাজ ও সংস্কৃতি 
লেখক: অর্পিতা শামস মিজান
বিষয়: রাষ্ট্র ও সমাজ, আইন
প্রকাশকাল: ২০২৪
প্রকাশক: পাঠক সমাবেশ
দাম: ৩৯৫ টাকা ২০% ছাড়ে বাহিরানাতে ৩১৬ টাকা।

বইটি কিনতে চাইলে:

আইনের ক্যানভাসে জীবন সমাজ ও সংস্কৃতি – বাহিরানা

(Visited 8 times, 1 visits today)

Leave a Comment