দিপু চন্দ্র দেব
নাগিব মাহফুজ, আধুনিক আরবি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁর লেখায় মিশরের সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে। তিনি সাহিত্যজীবনে বহুপ্রজ, তার উপন্যাসের সংখ্যা ৩৫, ছোটগল্প ৩৫০টি সেইসাথে নাটক ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন। কিন্তু তাকে পৃথিবীব্যাপি খ্যাতি এনে দেয় তার কায়রো ট্রিলজি। এই ট্রিলজির মূলকাহিনিকে তিনটি পর্বে ভাগ করে তিনটি সময়কে চিত্রায়ন করেছেন তিনি, প্রথমভাগে ‘প্যালেস ওয়াক’, দ্বিতীয়ভাগে ‘প্যালেস অব ডিজায়ার’ এবং তৃতীয়ভাগে ‘সুগার স্ট্রিট’। এই দ্বিতীয় খণ্ড ‘প্যালেস অব ডিজায়ার’ বাংলায় অনুবাদ করেছেন আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। তার বাংলায়নে অনুবাদটি পাঠকদের জন্য নাগিব মাহফুজের সাহিত্যে রসাস্বাদনের সুযোগ দেওয়ার সাথে সাথে আরেকটি নতুন জগতে প্রবেশের সুযোগও তৈরি করে দেবে বলা যায়।
নাগিব মাহফুজের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর বাস্তববাদী চিত্রায়ন। তিনি ইতিহাসকে তার লেখার একটি বড় হাতিয়ার মনে করেন। ফলে ইতিহাসের আলোকে বর্তমানের বদল বা রূপান্তর দৃশ্যমান হয়ে ওঠে তার কথাসাহিত্যে। ‘প্যালেস অব ডিজায়ার’ও এর ব্যতিক্রম নয়, এখানে তিনি মিশরের সমাজের বিভিন্ন স্তরকে ফুটিয়ে তুলেছেন। একটি পরিবারের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো, এবং সময়ের সাথে সাথে এর উত্থান ও ক্ষয়, নারী, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা, এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রভাব—সবকিছুই তিনি নিপুণভাবে উপস্থাপন করেছেন।
‘প্যালেস অব ডিজায়ার’ উপন্যাসটির কাহিনিক্রম মিশরের ১৯২৪ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত সময়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই সময়টি মিশরের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এ সময়ে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম তুঙ্গে ছিল। উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয় ১৯২৪ সালে মিশরের জাতীয়তাবাদী নেতা সা’দ জগলুল পাশার সাথে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে এবং শেষ হয় ১৯২৭ সালে তাঁর মৃত্যুতে। এই ট্রিলজিতে রাজনৈতিক পটভূমিতে একটি পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের তিন প্রজন্মের গল্প বলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, ভালোবাসা ও হতাশা মিশরের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নাগিব মাহফুজের লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর বাস্তববাদী চিত্রায়ন। তিনি ইতিহাসকে তার লেখার একটি বড় হাতিয়ার মনে করেন। ফলে ইতিহাসের আলোকে বর্তমানের বদল বা রূপান্তর দৃশ্যমান হয়ে ওঠে তার কথাসাহিত্যে। ‘প্যালেস অব ডিজায়ার’ও এর ব্যতিক্রম নয়, এখানে তিনি মিশরের সমাজের বিভিন্ন স্তরকে ফুটিয়ে তুলেছেন। একটি পরিবারের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো, এবং সময়ের সাথে সাথে এর উত্থান ও ক্ষয়, নারী, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা ও হতাশা, এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রভাব—সবকিছুই তিনি নিপুণভাবে উপস্থাপন করেছেন।
উপন্যাসটিতে মাহফুজ শুধু একটি পরিবারের গল্প বলেননি, বরং মিশরের ইতিহাসের গল্পও বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একটি পরিবারের জীবন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সাথে জড়িয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আবেগ মিশরের বৃহত্তর সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর অনুবাদ নাগিব মাহফুজের মূল রচনার সৌন্দর্য ও গভীরতাকে বাংলা ভাষায় সফলভাবে তুলে ধরেছে। মঞ্জু আরবি সাহিত্যের সূক্ষ্মতা ও জটিলতাকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা বাংলা পাঠকদের জন্য একটি সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতার যোগান দেবে।
মিশরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযুদ্ধকে জানতে ও বুঝতে সাহিত্যের কাছেই যেতে হবে বারবার, কেননা সাহিত্যেই একটি জাতি ভাষা পায়।
কায়রো ট্রিলজি: প্যালেস অব ডিজায়ার—নাগিব মাহফুজ—দেশ ও একটি পরিবারের যোগসূত্রের সন্ধানে
লেখক: নাগিব মাহফুজ
অনুবাদ: আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
বিষয়: অনুবাদ উপন্যাস
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৪
প্রকাশক: ঐতিহ্য
মূল্য: ১১০০ টাকা ২০% ছাড়ে বাহিরানাতে ৮৮০ টাকা।
বইটি কিনতে চাইলে:
কায়রো ট্রিলজি: প্যালেস অব ডিজায়ার (Cairo Trilogy: palace of desire) – বাহিরানা