দিপু চন্দ্র দেব
বাণিজ্যবন্দর চট্টগ্রামের ইতিহাস অনেক পুরনো। এটি বাংলাদেশের একমাত্র বন্দর যেটি বহির্বিশ্বে সেই প্রাচীনকাল থেকে নিজ যোগ্যতায় পরিচিতি পেয়ে এসেছে। আলোচ্য বই হারুন রশীদ-এর চিৎ-তৌৎ-গং: চেনা চট্টগ্রামের অচেনা ইতিহাস” বইটি চট্টগ্রামের অচেনা বিশ্বসংযোগের ইতিহাসকে উন্মোচিত করেছে। আমাদেরকে এই নগর ও বাণিজ্যবন্দর সম্পর্কিত এমনসব ঘটনার কথা বলছে যেগুলো এর সম্পর্কে ধারণাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। উল্লেখ্য, তিনি “উপনিবেশ চট্টগ্রাম” বইয়ের রচয়িতা ও এক ব্রিটিশ ক্যাপ্টেনের পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিযান নিয়ে “থাংলিয়ানা” বইয়ের অনুবাদক। বন্দরনগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে তার জানাশোনার পরিধি ব্যাপক।
ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের কাছ থেকে আমরা জানতে পাই কফি নিয়ে অসন্তোষেও বিদেশি সরকার হটানোর সফল এক যুদ্ধ হয়েছিল ইউরোপের এক দেশে। সেখানে কামান তো কফির চেয়ে মর্যাদায় বড়, যুদ্ধ হওয়ারই কথা। কিন্তু এটি বিশেষ এই কারণে যে, যুদ্ধের অনুঘটক কামানগুলো বাংলাদেশের এক নগরে অবস্থিত ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিক খননের পর যেসব টুকরোটুকরো বস্তু উঠে আসে, সেগুলোর আলাদা কোনো মূল্য নেই, সমগ্রের অংশ হওয়া ছাড়া। তারা যখনই একটি সভ্যতার সাথে মেশে তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে। সেরকমই একটি নগরের সাথে সম্পর্কিত টুকরো-টুকরো ঘটনা এর মূল্যায়নে পরিবর্তন নিয়ে আসে, চট্টগ্রামের সেরকমই সব ঘটনা নিয়ে বইটি অবয়ব পেয়েছে। ভূমিকা অংশে তিনি জানাচ্ছেন, এই নগরের ইতিহাস দুইহাজার বছরের, কারণ এর প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় এক গ্রীক নাবিকের বই “পেরিপ্লাস অব ইরিথ্রিয়ান সি”তে। যেমন আজ থেকে চারশ বছর আগে নগরটির একটি নৌবহর মালদ্বীপ আক্রমন করে এর রাজাকে হত্যা করেছিল, আর রাণী হয়েছিলেন বাঙালী এক নারী, যার কথা লিখেছিলেন ফরাশি নাবিক “ফ্রাঁসোয়া পাইরার্ড”। রবীন্দ্রনাথের বন্ধু কেদারনাথের কথাও এসেছে, যিনি চট্টগ্রামের ছিলেন।
আবার এই অঞ্চলে ১৮১১ সালে বৃটিশদের কারখানা থেকে ১৭টি কামান চুরির ঘটনা নিয়ে কীভাবে বিখ্যাত ইঙ্গ-বার্মা যুদ্ধ হয়েছিল তারও বিশদ বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি।
ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের কাছ থেকে আমরা জানতে পাই কফি নিয়ে অসন্তোষেও বিদেশি সরকার হটানোর সফল এক যুদ্ধ হয়েছিল ইউরোপের এক দেশে। সেখানে কামান তো কফির চেয়ে মর্যাদায় বড়, যুদ্ধ হওয়ারই কথা। কিন্তু এটি বিশেষ এই কারণে যে, যুদ্ধের অনুঘটক কামানগুলো বাংলাদেশের এক নগরে অবস্থিত ছিল।
চীনের সাথে ব্রিটিশদের “আফিম যুদ্ধ”-এর ফলে চায়ের প্রথম বাগান তৈরি হয়েছিল আসামে—সিলেট যার অংশ ছিল—তাও স্থানীয় জঙ্গল থেকে প্রাপ্ত চা গাছ নিয়ে। বইটিতে আমরা জানতে পারছি বাংলাদেশের প্রথম চা ও কফির বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠেছিল চট্টগ্রামে, এটা এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বৈকি।
এরকম অসংখ্য অশ্রুত ইতিহাসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তবে চিত্তাকর্ষক ঘটনার বিবরণ তুলে এনেছেন লেখক। শ্রমসাপেক্ষ গবেষণার দেখা পাই আমরা বইটিতে।
অচেনা ইতিহাস জানার পরিধিতে এলে ইতিহাসের অংশ হয়, বইটি চট্টগ্রামের গৌরবে আরো নতুন নতুন পালকের যোগান দেবে এরকমই প্রতীতি জাগিয়েছ।
চিৎ-তৌৎ-গং: চেনা চট্টগ্রামের অচেনা ইতিহাস
লেখক: হারুন রশীদ
বিষয়: ইতিহাস
প্রকাশনী: কথাপ্রকাশ
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫
দাম: ৬০০ টাকা ২৫% ছাড়ে ৪৫০ টাকা।
বইটি কিনতে চাইলে:
চিৎ-তৌৎ-গং: চেনা চট্টগ্রামের অচেনা ইতিহাস (chit-tout-gong) – বাহিরানা