বাহিরানা

ছদ্মবেশে চিলেতে : মিগুয়েল লিতিনের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা—গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস—স্বৈরতন্ত্রের দিনপঞ্জি


দিপু চন্দ্র দেব


আগোস্ত পিনোচেতের আমলে চিত্রপরিচালক মিগুয়েল লিতিনের শ্বাসরুদ্ধকর চিলি ভ্রমণ নিয়ে এই বই। লিতিন একটি ডকোমেন্টারি বানাতে চিলি গিয়েছিলেন। তার অভিজ্ঞতাকেই মার্কেস প্রথম পুরুষে পুর্নলিখন করেছেন। বইটিতে উঠে এসেছে পিনোচেতের আমলে মানুষের উপর ঘটা মর্মান্তিক সব ঘটনা, যেগুলোকে দুর্ঘটনা বলাই শ্রেয়।

মার্কেস নিজের কথাসাহিত্যিক পরিচয়ের চেয়েও সাংবাদিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিতেন বেশি। ছদ্মবেশে চিলেতে তারই এক দৃষ্টান্ত বলা যায়। তিনি তার বন্ধু লিতিনের স্বরের প্রতি বিশ্ব্স্ত থেকেছেন পুরোদমে। লিতিনের ছদ্মবেশি চিলি ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীর কাছে পুরো লাতিন আমেরিকার স্বৈরতন্ত্রের রূপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

লিতিন মার্কেসকে তার চিলি যাত্রা নিয়ে একবার বলেছিলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে নায়কোচিত কাজ না হতে পারে, কিন্তু এটা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কাজ।” কেন হবে না? কারণ তার এই শ্বাসরুদ্ধকর যাত্রা পাঠকদেরও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। পরাধীনতার, গুম-খুনের যন্ত্রণার মুখোমুখি করে।

১৯৬০ সালের শুরুর দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন লিতিন, তার তখন গ্রাম এলাকায় হত্যাযজ্ঞ নিয়ে চলচ্চিত্র ‘চাকাল দে নাহোয়েলটরো’কে বিংশ শতাব্দীর লাতিন আমেরিকার সেরা চলচ্চিত্রের একটি বিবেচনা করা হয়। এরপরই বামদের সুনজরে পড়েন তিনি। সালভাদর আলেন্দে ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাকে চিলি ন্যাশনাল সিনেমা একাডেমির পরিচালক নিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু ১৯৭৩ সালেই সব পাল্টে যায় পিনোচেত ক্ষমতায় এসেই লিতিনকে জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠান। তিনি এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি, যতক্ষণনা ১০ বছর পর তিনি চিলিতে একটি চলচ্চিত্র বানানোর পরিকল্পনা করেন, পিনোচেতের গোয়েন্দা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে। সেইকাজে তিনি ফরাশি, ইতালিয়ান, ডাচ সিনেমাটোগ্রাফারদের চিলির বিভিন্ন অংশে পাঠান, গোয়েন্দাদের সন্দেহ এড়ানোর জন্য। আর নিজে উরুগুয়ের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চিলিতে প্রবেশ করেন।

এই চলচ্চিত্রের প্রতিটি দলেরই দায়িত্ব ছিল স্বৈরশাসনের সময়কার মানুষের জীবনের প্রকৃত চিত্র তুলে আনা, রাষ্ট্রীয় মিডিয়া যেরকমভাবে দেখায় সেরকম নয়। এরই সত্য বর্ণনা মার্কেস নিয়ে এসেছেন বইটিতে, আর বইটি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক রহস্যউপন্যাস। লিতিন মার্কেসকে তার চিলি যাত্রা নিয়ে একবার বলেছিলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে নায়কোচিত কাজ না হতে পারে, কিন্তু এটা আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কাজ।” কেন হবে না? কারণ তার এই শ্বাসরুদ্ধকর যাত্রা পাঠকদেরও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করে। পরাধীনতার, গুম-খুনের যন্ত্রণার মুখোমুখি করে।

তুষার তালুকদার বইটির অসাধারণ ও বিশ্বস্ত অনুবাদ করেছেন। তার ভাষা ঝরঝরে, স্বচ্ছ। তাই কোনোধরণের বাধাবিপত্তি ছাড়াই দ্রুত পড়ে যাওয়া যায়। বইটির মাধ্যমে বাংলাদেশেরও সমমাত্রিক ঘটনার অর্থোদ্ধার করা সম্ভব, তাই বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক, স্বৈরতন্ত্রকে গভীরভাবে জানতে, বুঝতে।

ছদ্মবেশে চিলেতে : মিগুয়েল লিতিনের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা
লেখক : গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
অনুবাদ : তুষার তালুকদার
বিষয় : ভ্রমণ
প্রকাশকাল : ২০২৩
প্রকাশক : বাতিঘর
দাম : ৩২০ টাকা ২০% ছাড়ে ২৫৬ টাকা।

বইটি কিনতে হলে:

ছদ্মবেশে চিলেতে : মিগুয়েল লিতিনের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা – বাহিরানা

(Visited 28 times, 1 visits today)

Leave a Comment