বাহিরানা

নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা বই রিভিউ—অনুবাদ, পলাশ মাহমুদ, সম্পাদনা, সাখাওয়াত টিপু—সাহিত্যের জানালা


দিপু চন্দ্র দেব

সাতিহ্য একইসাথে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক, প্রত্যেক লেখকই একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ধারণ করেন তাদের ভেতরে। সেটি অন্যসব ভূখণ্ডের সাথে নিজের সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য খুঁজে পায়, লেখকের কাজ সেসব মিল-অমিল থেকে উদ্ভূত দ্বন্দ্ব আর সম্ভাবনার একটি মিথস্ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়া। প্রতিটি ভূখণ্ড গঠিত—চিন্তা, সংস্কৃতি, আর রাজনীতি দিয়ে। আর লেখকের কাজ এটাও, এসবের মধ্য দিয়ে একটি ভাষা তৈরি করা, যেখানে চিন্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতি—বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে মিলিত হয়ে বিশ্বের একপ্রান্তের মানুষের সাথে অন্যপ্রান্তের মানুষের যোগসূত্র গড়বে। এসবের পরেও সাহিত্যের এই ভাষাকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হয় অনুবাদের। অনুবাদ ছাড়া আমরা গ্যাটে কথিত “বিশ্বসাহিত্য” নামক বিষয়টির দেখা পেতাম না। এই বিশ্বসাহিত্যের কর্তাব্যক্তিদের সাহিত্যকে বাংলা সাহিত্য  চর্চায় আরো ভালোভাবে যুক্ত করতে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে পলাশ মাহমুদের অনুবাদ ও কবি ও সম্পাদক সাখাওয়াত টিপুর সম্পাদনায় “নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা”।

প্রতিটি বক্তৃতারই একটি শিরোনাম রয়েছে। আর এরমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক “হান কাং” এই সেদিন পুরস্কার পেয়েছেন। আমরা জানি তার গদ্য কাব্যিক, আর “নেরুদা” “পিন্টার”-দের মতো কবি, নাট্যকার—যাদেরকে পুরস্কার দিয়ে পুরস্কার নিজেই গৌরবান্বিত হয়—তাদের সাহিত্য, জীবন ও বিশ্বভাবনার সমান্তরালে একদম সদ্য নোবেল পাওয়া “হান কাং”-এর বক্তৃতা দুই মলাটের ভেতর পাওয়া দারুণ এক সাহিত্য অভিজ্ঞতা।

এখন পর্যন্ত যত পুরস্কারের দেখা পেয়েছি আমরা তার মধ্যে সবচেয়ে সমীহ জাগানো পুরস্কারটির নাম “নোবেল সাহিত্য পুরস্কার”। কারণ অন্তত এখানে সেই কন্ঠস্বরগুলোকে এখনও পাওয়া যায়, যারা সাহিত্যের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার আশা দেখান। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক লেখকই একটি বক্তৃতা দেন, যে বক্তৃতা শোনার জন্য পৃথিবীর সব সাহিত্যানুরাগী অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ এই কথামালায় লেখকদের চিন্তার, কাজের ও জীবনদর্শনের একটি সারৎসার পাওয়া যায়। আমাদের আলোচ্য বইটিতে এরকম বিভিন্ন দেশের দশজন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকের দশটি বক্তৃতা রয়েছে।

প্রতিটি মহাদেশের প্রতিনিধি রাখতে ও ভাষার বৈচিত্র ধারণ করতে এই দশজন লেখককে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই চিন্তা থেকে করা নির্বাচন বইটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে অনেকখানি। বইটির সূচীপত্রও বেশ সম্মৃদ্ধ, লেখক নির্বাচনে কয়েকটি নামের দিকে তাকালেই সেটি বুঝা যেতে পারে, “পাবলো নেরুদা ‘সেই অপূর্ব শহরের দিকে’” “শেমাস হীনি ‘কবিতার কৃতিত্বে…’” “গুন্টার গ্রাস ‘চলতে থাকবে…’” “হ্যারল্ড পিন্টার ‘শিল্প, সত্য ও রাজনীতি’” “ওলগা তোকারচুক ‘একজন দরদি গল্পকার’” “লুইস গ্লুক ‘যখন ছোট ছিলাম’” “অ্যানি এর্নো ‘কোথা থেকে শুরু করব?’” “হান কাং ‘লো ও সোনালি সুতো’”।

প্রতিটি বক্তৃতারই একটি শিরোনাম রয়েছে। আর এরমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক “হান কাং” এই সেদিন পুরস্কার পেয়েছেন। আমরা জানি তার গদ্য কাব্যিক, আর “নেরুদা” “পিন্টার”-দের মতো কবি, নাট্যকার—যাদেরকে পুরস্কার দিয়ে পুরস্কার নিজেই গৌরবান্বিত হয়—তাদের সাহিত্য, জীবন ও বিশ্বভাবনার সমান্তরালে একদম সদ্য নোবেল পাওয়া “হান কাং”-এর বক্তৃতা দুই মলাটের ভেতর পাওয়া দারুণ এক সাহিত্য অভিজ্ঞতা। পলাশ মাহমুদ ব্ক্তৃতাগুলোর অসাধারণ অনুবাদ করেছেন, আর কবি ও সম্পাদক সাখাওয়াত টিপু’র কথা বেশি বলার কিছু নেই, তিনি তার সম্পাদিত কাজের বহু নজির রেখেছেন। এই বইটিতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে খুব ভালোভাবে।

সব শেষে বলা যায় সাহিত্যিকদের নির্মিত জগৎ যেন এক স্বপ্নের কাজ, আনা আখমাতোবা তার এক কবিতায় যার সম্পর্কে বলেছিলেন, “অ্যা ল্যান্ড নট মাইন, স্টিল ফরেবার মেমোরেবল”। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্বাচিত লেখকদের বক্তৃতা পাঠকদের সাহিত্য অভিজ্ঞতাকে সম্মৃদ্ধ করবে।

নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা 
অনুবাদ: পলাশ মাহমুদ
সম্পাদনা: সাখাওয়াত টিপু
বিষয়: অনুবাদ বক্তৃতা
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫
প্রকাশক: আগামী প্রকাশনী ও প্রতিধ্বনি প্রকাশন
মূল্য: ৭০০ টাকা ২৫% ছাড়ে বাহিরানায় ৫২৫ টাকা।

বইটি কিনতে হলে:

নির্বাচিত নোবেল বক্তৃতা (Nirbachito Nobel boktrita) – বাহিরানা

(Visited 31 times, 1 visits today)

Leave a Comment