দিপু চন্দ্র দেব
ড. ভীমরাও আম্বেদকার অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে সর্বশ্রেণীর মানুষদের একত্রিত করার প্রয়োজন ছিল। একদিকে হিন্দু-মুসলীমদের একটি রাজনৈতিক সহযোগীতার পাটাতনে নিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু এর সাথে চলে আসা হিন্দু সামাজের দলিত সম্প্রদায়কেও যুক্ত করা বিশেষ প্রয়োজনীয় ছিল। অস্পৃশ্যতার সমস্যা প্রকট ছিল তখন, এখনও সমস্যাটির নিরসন পুরোপুরি হয়নি। আম্বেদকার মাঠপর্যায়ে থেকে যেমন এই বিষয়টির মুখোমুখি হয়েছেন, তেমনি তাত্ত্বিকভাবেও, এর উৎস সন্ধানে গবেষকের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, লিখেছেন অনেক। এরই স্ফটিকস্বচ্ছ নিদর্শন আলোচ্য বই “অস্পৃশ্য মানুষেরা : কারা ও কেন?” (The Untouchables, Who were they and Why they became Untouchable), বইটি মূলের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে অসাধারণ বাংলা অনুবাদ করেছেন শেখ সাইয়েদুল ইসলাম।
এই তিন শ্রেণীর মধ্যে, অস্পৃশ্যদের সংখ্যা তখনকার সময়ে ছিল পঞ্চাশ মিলিয়ন। ভারতীয় জনসংখ্যার নিরিখে সংখ্যাটি অভাবনীয়। এর সাথে “অপরাধী গোত্র” বলে যাদের ভাবা হতো তাদের সংখ্যা ছিল বিশ মিলিয়ন। আর আদিবাসীদের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন।
বাংলার অপরাধী জাতি সম্পর্কে জানতে তখনকার বাঙ্গালা পুলিশের ডেপুটি পুলিশ ইন্স্পেকটর-জেনারেল এফ্, সি, ডালি, আই, ই-এর “বাঙ্গালাদেশের যে সকল দুর্ব্বৃত্ত জাতি” বইটির রিভিউ পড়তে পারেন:
আম্বেদকারের “কারা ছিল শুদ্র” বইয়ের ধারাবাহিকতা লেখা হয়েছে এই বইটি। সেখানে শুদ্ররা কীভাবে আর্য সমাজের চতুর্থ বর্ণ হয়েছিল সেটা নিয়ে বিস্তর গবেষণা রয়েছে। এদের বাইরে আরো তিনটি শ্রেণী ছিল যারা সমাজের সুনজর পায়নি কখনওই। এই তিন শ্রেণীর মধ্যে, অস্পৃশ্যদের সংখ্যা তখনকার সময়ে ছিল পঞ্চাশ মিলিয়ন। ভারতীয় জনসংখ্যার নিরিখে সংখ্যাটি অভাবনীয়। এর সাথে “অপরাধী গোত্র” বলে যাদের ভাবা হতো তাদের সংখ্যা ছিল বিশ মিলিয়ন। আর আদিবাসীদের পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন। এত বিশালসংখ্যক জনসংখ্যার নাগরিক অধিকার ছিল এতই অকিঞ্চিৎকর যে সেটি দুঃখের গাথাই তৈরি করতে পারে কেবল। আম্বেদকার নিজেও অন্ত্যজ শ্রেণী থেকে আসা, ফলে তিনি বৈষম্যের বেদনার কথা জানতেন নিজের মর্মে।
বইটিতে ষোলটি অধ্যায়ে তিনি অস্পৃশ্যরা কেন অস্পৃশ্য এর কারণ অনুসন্ধান করেছেন সুদূর অতীত থেকে। অ-হিন্দু সমাজ ও হিন্দু সমাজের মধ্যে অস্পৃশ্যদের নিয়ে নিয়মবিধি কী, এ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করছেন তিনি। এরই পরিণামে আসে, এই মানুষগুলোকে কেন গ্রামের বাইরে থাকতে হয়? তারা কী ব্যর্থ মানুষ? এভাবেই তিনি এগিয়ে যান, অস্পৃশ্য মানুদের উৎপত্তি নিয়ে পুরাতন থিওরি ও নতুন থিওরির আলোচনা করেছেন তিনি বইটিতে। নতুন থিওরিতে তিনি বুদ্ধদের সাথে অস্পৃশ্যদের সংযুক্তি ও গরুর মাংস নিয়েও গবেষণা করেছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেখ সাইয়েদুল ইসলাম বইটির বাংলা অনুবাদে আম্বেদকারের “জাত প্রথা ধ্বংস হোক” শিরোনামে একটি ভাষণ যুক্ত করেছেন, যেটি তখন তাকে পড়তে দেওয়া হয়নি। ভাষণটিতে পুরো বইয়েরও একটি রূপরেখা পাওয়া যায়। ভারতীয় দলিত, অন্ত্যজ, অস্পৃশ্য সমাজের পূর্বাপর জানতে বইটি বিশেষ সহায়ক হবে, সাধারণ পাঠক ও গবেষকদের জন্যেও।
অস্পৃশ্য মানুষেরা : কারা এবং কেন?
লেখক: ড. বি. আর. আম্বেদকার
অনুবাদ: শেখ সাইয়েদুল ইসলাম
বিষয়: সমাজ ও সভ্যতা, ইতিহাস, প্রবন্ধ
প্রকাশকাল: ২০২৪
প্রকাশক: পাঠক সমাবেশ
দাম : ৪৯৫ টাকা ২০% ছাড়ে বাহিরানাতে ৩৯৬ টাকা।
বইটি কিনতে চাইলে:
অস্পৃশ্য মানুষেরা : কারা এবং কেন? – বাহিরানা