বাহিরানা

রুশি জাদুকথা— সুদেষ্ণা ঘোষ— চিরন্তন সময়ের সৃষ্টিশীলতার জগৎ


রূপকথা সব দেশেরই অমূল্য সম্পদ। এগুলোর মাঝে থাকে সেই দেশটির প্রজ্ঞার কণা, অতীতের জীবনবোধ। অদ্ভুত সব গল্পে আর কল্পনায় গড়ে ওঠে এই আখ্যানগুলো, তাই শিশুরা যখন এসব পড়ে তখন তাদের কল্পনার বিস্তার বাড়ে, তারা অন্যভাবে চিন্তা করতে শেখে। এই চিন্তা করার, শিল্পের আনন্দের পরিধিটি কিন্তু শুধু সেই দেশটিতেই সীমাবদ্ধ নয়, কারণ কল্পনার কোনো সীমা নেই। পৃথিবীর সব মানুষই এর অংশীদার হতে পারে। তাই রূপকথা, লোকগাথা একটি নির্দিষ্ট দেশের হয়েও, বিশ্বের হয়ে ওঠে। তার জন্য শুধু প্রয়োজন ভালো অনুবাদের। আর অনুবাদটিকে সার্থক করতে প্রয়োজন, দেশটিকে গভীরভাবে জানা-বোঝার মাধ্যমে অপর এক দেশের ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষদের কাছে উপস্থাপন করা।

যদিও এই আখ্যানগুলোর প্রকৃত মূল্য নিয়ে বেশি বাড়িয়ে বলা হয়ে যায়— তবু ভিন্ন অর্থে জীবন তো এক ভ্রমণই, এতে শৈশব আর প্রাপ্তবয়স্ককাল সব মিশেমিশে একাকার হয়ে আছে। এই গল্পগুলো পাঠকদের সেই ভ্রমণেই নিয়ে যায় রুশদের অতীতে, আর সেই অতীত তো সারা পৃথিবীর সাথে আমাদেরও। এ যেন ইউলিসিসের ইথাকায় ফেরার ভ্রমণযজ্ঞের মাধ্যমে জীবনের বিস্ময়কেই জানা।

রুশদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য আর চলচ্চিত্র একসময় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেই আমরা জানতে পেরেছিলাম তাদের সমাজবাস্তবতাকে গভীরভাবে। সেই জানার মাধ্যমে তাদের গল্প, উপন্যাস, কবিতা হয়ে উঠেছিল আমাদেরই অংশ।
“রুশি জাদুকথা” এরকমই এক রূপকথা আর লোকগাথার বই। বইটির শুরুতেই একটি সুন্দর ভূমিকার মাধ্যমে যখন আমরা এর ভেতর প্রবেশ করি, তখন আশ্চর্য আটটি রুপকথার অদ্ভুত আখ্যানের মুখোমুখি হই। এর মধ্যে কোনোটা আমাদের জানায় ‘দাড়িওলা বরফ বুড়োর গল্প’ কোনোটা বলে ‘অভিশপ্ত যোদ্ধার কাহিনি’ এভাবে একের পর এক আসে ‘কৃষক দিমিয়ান’ ‘সোনার পাহাড়’র আশ্চর্য সব ঘটনা।

সবগুলো কাহিনিই জীবনের অকূল সমুদ্রের একটি দিক উন্মোচন করে পাঠকদের সামনে। যাতে মিশে আছে উপদেশ, অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান। যদিও এই আখ্যানগুলোর প্রকৃত মূল্য নিয়ে বেশি বাড়িয়ে বলা হয়ে যায়— তবু ভিন্ন অর্থে জীবন তো এক ভ্রমণই, এতে শৈশব আর প্রাপ্তবয়স্ককাল সব মিশেমিশে একাকার হয়ে আছে। এই গল্পগুলো পাঠকদের সেই ভ্রমণেই নিয়ে যায় রুশদের অতীতে, আর সেই অতীত তো সারা পৃথিবীর সাথে আমাদেরও। এ যেন ইউলিসিসের ইথাকায় ফেরার ভ্রমণযজ্ঞের মাধ্যমে জীবনের বিস্ময়কেই জানা।

বইটির অনুবাদে সুদেষ্ণা ঘোষ আন্তরিকতার কমতি রাখেননি। ফলে প্রাঞ্জল আর ঝরঝরে গদ্যে শিশু-কিশোর থেকে সবধরণের পাঠকদের কাছেই শিল্প আর আনন্দের দাবী পূরণ করবে বলে ধারণা এই জাদুকথার বই। আমাদের ঠাকুরমার ঝুলি যেভাবে আমাদের সম্মৃদ্ধ করেছে, আমাদের পূর্বজদের বলা বিভিন্ন মৌখিক কেচ্ছা-কাহিনী যেভাবে আমাদের শৈশবকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করেছিল, এবং এখনও করছে। ‘রুশি জাদুকথা’ সেই দায়িত্ব পালন করবে বলে মনে হয়।

রুশি জাদুকথা
অনুবাদ: সুদেষ্ণা ঘোষ
প্রকাশক: আশ্রয় প্রকাশনী
দাম: ৩০০ টাকা

বইটি কিনতে:

রুশি জাদুকথা – বাহিরানা (bahirana.com)

(Visited 37 times, 1 visits today)

Leave a Comment