এ পি জে আবদুল কালামের উইংস অব ফায়ার বই রিভিউয়ের প্রচ্ছদ

এ. পি. জে আবদুল কালামের উইংস অব ফায়ার: সাধারণ একজনের অসাধারণ উত্থানের ঘটনাবলি

কিছু কিছু বই বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন—সবই একাকার হয়ে যায় তাতে, তবে তা শব্দে নয়, শব্দের অতিরিক্ত হয়ে তখন বইয়ের লেখকের জীবনটিই মূখ্য হয় তখন পাঠকদের মনে। কারণ ‍যিনি লিখছেন তার জীবন মহাকাব্যের মতো বিশাল, তাতে জয় পরাজায়, যুদ্ধ ও শান্তি সবই এক অনন্যতায় এসে থেমেছে—তা হলো মানুষটি স্বয়ং। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানী এ.পি. জে আবদুল কালামের ( A. P. J Abdul Kalam) আত্মজীবনী উইংস অব ফায়ার (Wings Of Fire) তেমনই এক বই। আর তার জীবন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার নাম।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় বি. আর. আম্বেদকার-এর সঙ্গে আবদুল কালামের জীবনের একটি মিল আছে, ধর্মে ভিন্ন হলেও দুইজনকেই প্রতিষ্ঠা পেতে সমাজের সঙ্গে দীর্ঘ দেনদরবারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ তো সাধারণ কথা প্রত্যেক মহৎ ব্যক্তিকেই এই দেনদরবারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় কোনো না কোনো ভাবে। কিন্তু আম্বেদকার ও আবদুল কালাম দুইজনই নিজেদের চেয়ে সমাজ রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দিকে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। আম্বেদকার তার অস্পৃশ্য মানুষেরা: কারা এবং কেন? বইয়ে নিম্নবর্গের যে তত্ত্বায়ন করেছেন তা তার রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। আবদুল কালামের উইংস অব ফায়ায় বইটিতেও একটি সরল তত্ত্বায়ন দেখা যায়, তা হলো তিনি তরুণদের প্রতি অত্যধিক মনোযোগ দিয়েছেন। তাদের প্রেরণা যেমন দিয়েছেন তেমনি নিজের জীবনকে তাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে উপস্থিতও করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে তরুণদের উপর ভরসা রাখাও একটি তত্ত্বই, কারণ ভারতের উদীয়মান অর্থনীতিতে তরুণ-তরুণীরাই প্রধান শক্তি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই।

বইটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন প্রমিত হোসেন। তার অসাধারণ সহজ অনুবাদে বইটি মূলের স্বাদ দেয় পাঠে। বইটি থেকে একটি কয়েকটি বাক্য দেখা যেতে পারে,

“পূর্বতন মাদ্রাজ রাজ্যের দ্বীপ-শহর রামেশ্বরমে একটি মধ্যবিত্ত তামিল পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবা জয়নুলাবদিন, খুব বেশি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া জানতেন না আর খুব বেশি ধন—সম্পদও তার ছিল না; এসব অসুবিধা সত্ত্বেও তার ছিল সহজাত জ্ঞান ও আত্মার খাঁটি বদান্যতা। আমার মা আশিয়াম্মার মধ্যে তিনি পেয়েছিলেন এক আদর্শ সহধর্মীনি। মা প্রতিদিন যতজন লোককে খাওয়াতেন তাদের সঠিক সংখ্যা আমি মনে করতে পারব না, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আমাদের পরিবারের মোট সদস্যের চেয়ে তাদের সংখ্যা হত অনেক অনেক বেশি।” (উইংস অব ফায়ার, অনু: প্রমিত হোসেন)

এই কথাগুলো তিনি বইয়ের শুরুতেই বলছেন, তার যে নিজের চেয়েও বেশি দেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা ছিল জীবনভর, বাক্যগুলো পড়ার পর, এই দেশ সেবার বীজ যে তার মা-ই তার ভেতর রোপণ করেছিলেন তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে না।

উইংস অব ফায়ার বইয়ে তিনি তার শৈশব-কৈশোর, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে যেমন বলেছেন, তেমনি তার অনেক অজানা বিষয়ও উঠে এসেছে বইটিতে। যেমন তার কর্মজীবনে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে অনেক কথা জানতে পারি আমরা এই বইটিতে। সবকিছু ছাপিয়ে আমরা এমন একজন মানুষকে জানতে পারি যিনি প্রেরণার দ্বারা তার জীবনকে জয় করেছিলেন শত অনিশ্চয়তা ও বিরোধের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ভারতের এক প্রদেশ থেকে এসে তিনি জয় করে নিয়েছিলেন বিশ্বকেই।

উইংস অব ফায়ার
এ. পি. জে আবদুল কালাম
প্রকাশক: অন্যধারা
প্রকাশকাল: সর্বশেষ সংস্করণ, ২০২২
মূল্য: ২৫০ টাকা।

উইংস অব ফায়ার বইটি কিনতে চাইলে

মন্তব্য করুন

🛒 Cart 0