শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি উপন্যাস রিভিউয়ের প্রচ্ছদ

শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি: জাদুবাস্তবতাকে অবলম্বন করে উত্তর-আধুনিকতার দিকে যাত্রা

শহীদুল জহির কবে পড়া শুরু করেছি ঠিক মনে করতে পারছি না। কিন্তু শহীদুল জহির পড়ার অল্প দিনের মধ্যেই বুঝে গেছি বাংলায় যেমন এক সময় চর দখল হতো, যার শক্তি বেশি ছিলো সে-ই বড় দখলদার হতো, শহীদুল জহিরও বাংলা সাহিত্যে একজন বড় দখলদার তার স্বতন্ত্র গল্পভাষা ও শৈলীর কারণে। এসব বিশেষত্বের গুণে তিনি অনেকটাই দখল করে ফেলেছেন। বোশেখ মাস, কয়দিন ধরে ঝড়-তুফান যাচ্ছে, নিম্নচাপও দেখা দিয়েছে, তাই লিখতে গিয়ে বার বার হোঁচট খাচ্ছি। ইচ্ছে হলো শহীদুল জহির পড়ি, একটানে পড়ে ফেললাম আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু,  মনে হলো লেখালেখি শুরু করি আবার। অগত্যা শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি উপন্যাসটার দিকে চোখ পড়লো। পড়তে শুরু করার পরই একসময় অনুভব করলাম ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ছি মুখের দিকে দেখি-এর গভীর অরণ্যে।

এত বিভ্রান্তিকর আখ্যান তবু এত পরিণত উপন্যাস কেবল বাংলা সাহিত্যে নয় বিশ্ব সাহিত্যে আমি সর্বশেষ কবে পড়েছি মনে পড়ছে না। অন্যদিকে এরকম গতিশীল আখ্যানও বাংলা কথাসাহিত্যে প্রায় অনুপস্থিত। আবার উপন্যাসের চরিত্রগুলো যার যার মতো করে এতো সাবলীল যে তারা গোলক ধাঁধায় ফেলে দেয়। তবে এসবের মধ্যেও দেখা যায় উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে খৈমন চরিত্রটির প্রাধান্য রেখেছেন শহীদুল জহির। তাকে সামনে রেখেই তিনি বহুমুখী গল্পবিস্তার করেছেন। 

শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি উপন্যসের মুল গল্পে আমরা দেখি খৈমনের বেড়ে ওঠা ও ময়না মিঞার সাথে তার বিয়ে—এই প্রধান ঘটনাটি জোবেদা বেগমের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, আর মাঝে মধ্যেই লেখক স্বয়ং আখ্যানকে এগিয়ে নেন। এভাবেই আসতে থাকে ময়না মিঞার মৃত্যু ও খৈমনের ছেলে চাঁন মিঞার বেড়ে ওঠা, এরই সমান্তরালে উপন্যাসটিতে জোবেদার ছেলে মামুন ও লেদু, তাদের বেড়ে ওঠার গল্প ও শিলভারডেল স্কুলে তাদের স্কুল জীবন আর শিক্ষিকা মেরি জয়েস ও তার মেয়ে জুলি এবং তাদের পুর্বপুরুষরা কিভাবে বাংলায় আসে ও তাদের জীবনাচরণও আলোকপাত করা হয়েছে । জোবেদার বয়ানে খৈমনের তার পড়শী নুরানী বিলকিসের কাছে আসা-যাওয়া, আর খৈমনের সংসারের অভাবের গ্লানি টেনে নেওয়ার বিষয়টিও আসে। চাঁন মিঞার বানরের দুধ খেয়ে বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে লেখক মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনারও যোগসূত্র ঘটিয়েছেন। তবে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয়টি হলো শহিদুল জহিরের এই উপন্যাসের বয়ানে কোনো পারম্পরিকতা নেই, খাপছাড়া, লেখক যখন ইচ্ছে আপনাকে যেকোনো গল্পে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমরা দেখি শহীদুল জহির—কৈশোর পেরোনো মামুন, লেদু ও চাঁন মিঞার পরিণত বয়সের বিচিত্র ও আশ্চর্য ঘটনাগুলো এবং তাদের সাথে মেরি জয়েসের পরিবারের অদ্ভুত মিথষ্ক্রিয়া। মামুনের বর্ণাঢ্য  জীবন, সাতকানিয়ায় আসমানতারা হুরে জান্নাত এবং সেখানে ‘খরকোস মামুন’-এর উপস্থিতি ও আসমানতারা হুরে জান্নাতের সাথে তার বড় হওয়া এবং পাঠকদের কাছে তাদের জীবনের অপরিচিত বাঁকের গল্প নিয়ে—অভিনব এক উপন্যাসের জন্ম দিয়েছেন।

এত বিভ্রান্তিকর আখ্যান তবু এত পরিণত উপন্যাস কেবল বাংলা সাহিত্যে নয় বিশ্ব সাহিত্যে আমি সর্বশেষ কবে পড়েছি মনে পড়ছে না। অন্যদিকে এরকম গতিশীল আখ্যানও বাংলা কথাসাহিত্যে প্রায় অনুপস্থিত। আবার উপন্যাসের চরিত্রগুলো যার যার মতো করে এতো সাবলীল যে তারা গোলক ধাঁধায় ফেলে দেয়। তবে এসবের মধ্যেও দেখা যায় উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে খৈমন চরিত্রটির প্রাধান্য রেখেছেন শহীদুল জহির। তাকে সামনে রেখেই তিনি বহুমুখী গল্পবিস্তার করেছেন।

উপন্যাসটির আরেকটি বড় সামর্থ্য হলো এর নেরেটিভের বাঁক নেওয়া। সেখানে স্থান, কাল আর নেরেটিভ একাকার হয়ে গেছে। প্রত্যেকটা চরিত্র, স্থান বা কাল এমনভাবে লেখক আপনার সামনে হাজির করেন যেন একটা সময়, স্থান, বা চরিত্র আরেকটার প্রতিসঙ্গ হয়ে ওঠে। লেখক যেখানে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে, যে চরিত্রের জীবন ও মনে ইচ্ছে করেন সেখানেই ঢুকে পড়েন। যেন লেখকের কাছে স্থান, কাল, পাত্র একই মোহনার অনেকগুলো বাঁক। শহীদুল জহিরের অন্যান্য উপন্যাসের সঙ্গে এই উপন্যানের পার্থক্য হিসেবে এখানেই তার সবচেয়ে মুন্সিয়ানা প্রতিফলিত হয়েছে। এই উপন্যাসের আরেকটা বড় বিষয় হচ্ছে চরিত্রকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু পটভূমির আভাস-ইঙ্গিত, রূপক-প্রতীকের সমন্বয়ে ঘটনাপরম্পরার বর্ণনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা। এখানে খৈমনের ছেলে চাঁন মিঞার ছোট বেলায় বানরের দুধ খেয়ে বেড়ে ওঠার প্রসঙ্গটা আনা যায়, যা দৃশ্যমান না কিন্তু লেখক সবাইকে জানিয়ে দেন চাঁন মিঞা বানরের দুখ খেয়ে বেড়ে ওঠেছে—যার দৃশ্যমান বাস্তবতা নেই, তাকে অনায়াসে জাদুবাস্তবতা বা ম্যাজিক রিয়ালিজম বলা যায়। যদিও এই ম্যাজিক রিয়ালিজমের গডফাদার বলে আমরা গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসকে জানি। কিন্তু বাংলা সাহিত্যে শহীদুল জহিরের আগে এতো সুনিপুণভবে জাদুবাস্তবতাকে আর কেউ ফুটিয়ে তুলেছেন বলে আমার ধারণা নেই। আমরা যদি উপন্যাসটির আরো পেছনে যাই, দেখি, রাজাকার আব্দুল গনি যখন বার বার গর্ভবতী খৈমনের শরীরের লোভে তাদের বাড়ি আসে আর দেখে খৈমনের বাচ্চা জন্ম নিচ্ছে না তখন সে বিপাকে পড়ে। তাই পরবর্তীতে দেখি চানঁ মিঞার জন্ম নিয়া একটা ধাঁধার সৃষ্টি হয়। জোবেদার ভাষ্যমতে চান মিঞার জন্ম ষোলই ডিসেম্বরের আগেই হয়েছে কিন্তু খৈমন কাপড়ের পোটলা বেঁধে পোয়াতি সেজে ছিল রাজাকার গনির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। ষোলই ডিসেম্বরের দিন খৈমন পোটলা থেকে ছেলেকে বের করে, আর বলে “চাঁন মিঞার জন্ম হইছে”। যার কারণে চান মিঞাকে তার সহপাঠিরা “পোটলার পোলা” বলে গাল দিতেও আমরা শুনি। লেখক এখানেও আমাদের ধাঁধায় ফেলেন। আমারা জাদুবাস্তবতা বা ম্যাজিক রিয়ালিজমের জালে আটকা পড়ে থাকি। কিন্তু এর উপস্থাপন খুবই সুনিপুণ ও সুচারু। সময় ও স্থানের উপস্থাপনাতেও এই সুনিপুণতার দেখা মেলে। অন্যদিকে দেখি, উপন্যাসে বর্ণিত খ্রিশ্চিয়ান সমাজের উপস্থাপনও অত্যন্ত জীবন্ত ও সুন্দরভাবে করেছেন শহিদুল জহির। মনে হয় তারা সেই পুর্তগীজ আমলে এসেছিলো বটে কিন্তু এখানকার মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। তবে সময়ের কথা বললে মুখের দিকে দেখি উপন্যাসের বিশেষ সময় হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টি। একে বিশেষ সময় বলার কারণ হলো, শহিদুল জহিরের এই উপন্যাসে অনেকগুলো সময়পর্ব জড়িয়ে পেঁচিয়ে আছে, আলাদাভাবে সময় নির্ধারণ করা তাই কঠিন।

উপন্যাসের এক পর্যায়ে দেখতে পাই, লেদু ও মামুন শিক্ষককে (মেরি জয়েস) দেখার বাহানা করে জুলির কাছে যায়। জুলির সাথে তাদের মিথষ্ক্রিয়া বাংলায় তৎকালীন খ্রিশ্চীয় সমাজের কনজারভেটিভ মনন বা নেটিভদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বিষয়ে সচেতনতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়। এটা প্রকাশিত হয় যখন দেখি মামুন জুলিকে কাছে আসার কথা বলার পরও জুলি যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখে। তবুও মামুননের জুলির গলায় জুলে থাকা যিশুকে চুম্বনের অনুমতি পার্থনা তার অবদমিত ভালোবাসারই এক রূপ বলে মনে হয়। কিন্তু এখানেও লেখক মামুনের বদলে বেছে নেন চাঁন মিঞাকেই, জুলির মনের কোন এক গোপন কোঠরে চাঁন মিঞা সঙ্গোপনে আসন গেড়ে বসে থাকে। তাই উপন্যাসের শেষের দিকে আমরা দেখি চাঁন মিঞা হঠাতই রংধনুর মতো আবির্ভূত হয়ে জুলিকে তুলে নিয়ে যায়। এই নেওয়ার মাঝেও এক ধরণের নাটকীয়তার দেখা মেলে, চাঁন মিঞা জুলিকে তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় জুলির পড়া এক উপন্যাসের চরিত্রের মতো এবং দুদিন পর আবার ফিরিয়েও দিয়ে যায়। চাঁন মিঞা যখন জুলির শরীরে নিম্নাংশে তালাবদ্ধ লকার পরিয়ে জুলিদের বাসায় নিয়ে আসে তখন জুলির মা মেরি জয়েস চাঁন মিঞাকে জুলিকে আবার নিয়ে চলে যাওয়ার কথা বলেন। এই ঘটনাটি চাঁন মিঞার সঙ্গে মানানসই। এই চান মিঞাই ঢাকা শহরের দক্ষ মোটরকার চুর, আবার ছোটবেলা সহপাঠীরা তাকে “পুঠলার পুলা” বলায় স্কুল থেকে যে বের হয়ে এসেছিল কোনদিন আর ওমুখো হয়নি অথচ মেরি জয়েসের প্রিয় ছাত্র ছিলো সে, তাকে তিনি “মাঙ্কিবয়” বলতেন। এইখানে লেখক যে বাস্তবতার সম্মুখীন করান আমাদের, আপনার মনে হতে পারে এরকমই তো হয়, বা প্রচলিত নিয়মে এভাবেই হয় সব, কিন্ত যা এখানে অপ্রচল ও অচেনা সেট হলো জুলির নিম্নাঙ্গে চান মিঞার লকার পরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি। এখানে বাস্তবতাকে শহীদুল জহির সন্তর্পণে অপরিচিত গল্পবাস্তবের বিন্যাসে ঠেলে দেন। এরকম অনেকগুলো বাস্তবতাকে অপরিচিতকরণের বিন্যাস শহীদুল জহিরের এই উপন্যাসের প্রধান উপজীব্য।

আবার ফিরি শহীদুল জহিরের জাদুবাস্তবতায় মানে চট্টলার সাতকানিয়ায়, একের পর এক পুত্র সন্তান জন্ম দিতে দিতে অবশেষে ডলি বেগম জোড়া সন্তানের জন্ম দেয়। একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। ডলি বেগমের যখন হুশ ফেরে—তার দুই সন্তান হতে পারে তা তার বিশ্বাস হয় না। এরমধ্যে মেয়ে সন্তানটি একটু রিষ্টপুষ্ট ও তার নাভি অনেকটা শুকনো। আমরা এতটুকুই জানি। এখানেও লেখক আমাদের ধাঁধায় ফেলেন। মেয়েটির নাম রাখা হয় আসমানতারা হুরে জান্নাত। হুরে জান্নাত কিছুটা বড় হওয়ার পরই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে খরকোস মামুনের। তার আবির্ভাবটাও ভিন্নরকম, এক পর্যায়ে আমরা দেখি, জোবেদা করাতকলের ভূসি দিয়ে রান্না করছে। আর শহিদুল জহির আমাদেরকে বলেন, মামুন করাতকলে ভুসি আনতে গিয়ে ভূসির স্তুপে বেহুশ হয়ে পড়ে থাকে এবং ট্রাকে করে তাকে সাতকানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

“সার ও ভুসির সঙ্গে মামুন মিঞা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে চলে যায়। ব্যাপারটা এইভাবে ঘটে। এই চালাক অথবা বোকা কুলিরা ভুসি তোলার সময় অবশ্যই তাকে পায়, সে হয়তো অজ্ঞান হয়া ভুসির স্তুপের মধ্যে পড়ে ছিল, তখন তারা তাকে আবিষ্কার করে, কিন্তু কারখানার ভিতরে অন্ধকার থাকায়, কারণ তারা আলো জ্বেলে কাজ করতে পারছিল না, তারা টুকরির ভিতরে অজ্ঞান মামুনকে গোল করে ভরে একটা ট্রাকের মধ্যে ছুড়ে ফেলে দেয়, তাদের একবার মনে হয়, এটা হয়তো কাঠের একটা টুকরা, এইরকম ভাবা কঠিন কিছু না, তারা কুলির পোলা কুলি, তারা তাই ভাবে যে, কাঠের ভুসির ভিতরে যা পাওয়া যায় তা কাঠই, হয়তো দামি, সেগুন কিংবা গামারি, শিল কড়ই কিংবা গর্জনও হতে পারে, অথবা হাবিজাবি, কদম কিংবা ছাতিম, তথাপি হয়তো কোন কাঠই। অথবা তারা হয়তো এইরকম ভাবে না, তারা হয়তো অতো বোকা ছিল না, হাত দিয়া ভুসি তুলতে যায় তারা যখন সেখানে মামুনুল হাইকে পায়, অন্ধকার হলেও তারা বুঝতে পারে যে, এইটা একটা মানুষ, কাঠ না, কারণ তারা দেখে যে, তার দুই হাত দুই পাও এবং একটা মাথা আছে, এই কুলিরা জানে যে, দুই হাতপাও এবং একটা মাখা থাকে মানুষের, ফলে তখন তারা ভয় পায়া যায়, তাদের মনে হয় যে, এটা হয়তো লাশ, এবং তখন তারা তাদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তারা একটা কথাও না বলে মামুনকে টুকরিতে তুলে নিয়া যায়া ট্রাকের ভিতরে ফালায়।”

(মুখের দিকে দেখি, শহীদুল জহির)

সাতকানিয়া থেকে এসে খরকোস মামুন যখন জোবেদার সামনে নিজেকে মামুন বলে পরিচয় দেয় তখন জোবেদার মাথা ঘোরপাক খায়, কেননা তার ছেলে মামুন তার কাছেই থাকে। এ কোথা থেকে এলো। তাই আমরা ঢাকায় দেখি মামুন আর সাতকানিয়ায় খরকোস মামুন। এই মামুনের দ্বিত্বতাও আরেকটি জাদুবাস্তবতার জন্ম দেয়। আর খরকোস মামুনের জীবনাচরণও অভিনব। আসমানতারা হুরে জান্নাতকে আনন্দ দেওয়ার জন্য তার দাদা বয়ঃসন্ধিকালের পূর্ব পর্যন্ত খরকোস মামুনকে খাঁচায় বন্দী করে রাখে। হুরে জান্নাত তাকে নিয়ে খেলে। বয়ঃসন্ধির পর সে ছাড়া পায় এবং সাগরে মাছ ধরা চোরাচালানীদের সাথে যুক্ত হয়ে অবশেষে ঢাকায় এসে পৌঁছে। আর যখন সে বলে আমি মামুন তখন থমকে যেতে হয়।

শহীদুল জহিরের মুখের দিকে দেখি উপন্যাসের পাঠ আমাদের মনে চলমান থাকে উপন্যাসটি শেষ হওয়ার পরেও, কারণ শহীদুল জহির এই উপন্যাসে এমন সব বাঁক তৈরি করেছেন যার কোনো সরল উত্তর হয় না। মনে হয় আরো একটু সামনেই উত্তর রয়েছে কিন্তু জহির কোনো বাঁকে আমাদের না থামিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। যেখানে আমরা জাদুবাস্তবতাকেও পেরিয়ে এক উত্তর-আধুনিক সাহিত্যের দেখা পাই, এই ভেবে যে উপন্যাসটির হয়তো কোনো অর্থই নেই, কিংবা শহীদুল জহির অর্থহীনতাকেই অর্থময় করতে চেয়েছেন।

মুখের দিকে দেখি
লেখক: শহীদুল জহির
বিষয়: উপন্যাস
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারী, ২০০৬
প্রকাশক: মাওলা ব্রাদার্স
মূল্য: ৩০০ টাকা।

মুখের দিকে দেখি উপন্যাসটি কিনতে চাইলে।

মন্তব্য করুন

🛒 Cart 0